গণিতে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন করার উপরে কিছু টিপস

আলমগীর হোসেন:
গণিতে সৃজনশীল প্রশ্ন প্রণয়নে সেকেন্ডারী এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসইএসডিপি) কর্তৃক আয়োজিত কারিকুলাম বিস্তরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০১৩ এবং ২০১৭ইং এর মাধ্যমে যে ম্যাসেজ পেয়েছি, সেই ম্যাসেজগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো: একটি সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরিতে একটি নতুন পরিস্থিতিযুক্ত মৌলিক, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত উদ্দীপক থাকবে, উদ্দীপক কখনো পাঠ্যপুস্তক থেকে নেয়া যাবে না। উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তিনটি (ক,খ,গ) প্রশ্ন থাকবে যার মান হবে ক নং এর জন্য ২,খ নং এর জন্য ৪,গ নং এর জন্য ৪, সর্বোমোট ১০ নম্বর। ক নং এর উত্তর হবে উদ্দীপকনির্ভর অথবা যে অধ্যায় থেকে উদ্দীপক নেয়া হয়েছে সেই অধ্যায় সংশ্নিষ্ট। ক অংশের উত্তরের জন্য ২টি ধাপ থাকবে, প্রতিটি ধাপের নম্বর ১। সৃজনশীল প্রশ্নের ২য় অংশের (খ নং) কাঠিন্যের স্তর মধ্যম মানের হবে।এ অংশের উত্তর উদ্দীপকের উপর নির্ভরশীল হবে এবং উত্তরের ক্ষেত্রে ৪টি ধাপ থাকা বাস্থনীয়। সৃজনশীল প্রশ্নের ৩য় (গ নং)অংশটি তুলনামূলক কঠিন স্তরের এবং এই অংশের উত্তরও সরাসরি নির্ভরশীল। এখানেও উত্তরে ৪টি ধাপ থাকা বাঞ্ছনীয়। প্রশ্নগুলো এমন ভাবে হবে যেন কোন প্রশ্নের উত্তর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ক অংশের নম্বর দুই ধাপে, ২ অথবা ১ পেতে পারে। খ ও গ অংশে ৪টি ধাপে, ৪ অথবা ৩ অথবা ২ অথবা ১ অথবা নম্বর পেতে পাওে অর্থাৎ প্রতিটি ধাপের নম্বর ১।নম্বর কখনো ভগ্নাংশে দেয়া যাবে না। কোন অংশ ভুল হলে নম্বর কাটা যাবে কিন্তু ঐ ভুল তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তী অংশের প্রক্রিয়াগতভাবে ঠিক থাকলে সেই অংশের জন্য পূর্ণ নম্বর পাবে। অথ্যাৎ একই ভুলের জন্য একাধিকবার দন্ড দেয়া যাবে না। গণিতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে বাক্য গঠন, ভাষাশৈলীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া যাবে না। ১১টি প্রশ্নই লিখিত হতে পাওে আবার ১১টিই হতে পাওে সারণী, গ্রাফ/লেখচিত্র, ছবি অথবা ডায়াগ্রাম অথবা এগুলোর সমন্তিতরূপ। এক বা একাধিক অধ্যায়ের আলোকে উদ্দীপক তৈরি হতে পারে। প্রশ্নে কোন নতুন তথ্য সংযোজন করা যাবে না অর্থ্যাৎ সকল তথ্যই উদ্দীপকে দেয়া থাকবে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা জানায়, গণিত বিষয়টি সৃজনশীল করা হয়েছে। প্রচলিত নিয়মের চেয়ে বেশি অংক কওে দেখাতে হচ্ছে। ফলে সে অনুযায়ী সময় বাড়ানো হয়নি। এ কারণে নির্দেশিত সময়ে সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে সকল ছাত্রছাত্রীদেও হিমশিম খেতে হয়। তারা বলেন, গণিত বিষয়টি সব সময়ের জন্য কঠিন। আর এখন সৃজনশীল করার কারণে আমরা গাইড বইয়ের সহযোগিতা নিয়েও অধিকাংশ অংকের সমাধান করতে পারছি না।
ছাত্রছাত্রীরা বলেন, উচ্চবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা গ্রাইভেট টিউটরের সহযোগিতা নিয়ে গণিত পারলেও দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা সেটা পাওে না। ফলে তাদেও ফলাফল আশানুরূপ হয় না। শুধু গণিতের কারণেই জে.এস.সি ২০১৭ পরিক্ষায় মোট ফেলের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে। (চলবে)

মোঃ আলমগীর হোসেন,
সহকারি শিক্ষক (গণিত)
চুয়াডাঙ্গা একাডেমী।

 

Facebooktwittergoogle_plusredditpinterestlinkedinmail

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*